বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এ বছর আমন ধানের এত ফলন হয়েছে যে আমি সারাক্ষণ ধানখেতের দিক থেকে দৃষ্টি ফেরাতে পারি না। একেবারে অভিভূত হওয়ার মতো অবস্থা। জমিতে যেন ধানের স্তূপ পড়ে আছে। আমার ধারণা, এ জমিগুলো দেখে কৃষকের মনটা আনন্দে ভরে যায়। তাঁরা হয়তো পরিবার–পরিজন নিয়ে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে আর অনাবিল আনন্দে দিন কাটানোর স্বপ্নের জাল বোনেন। আর বুনবেনই না বা কেন? সৃষ্টিকর্তা এবার যেভাবে তাঁদের দুহাত ভরে দান করেছেন, তাতে তাঁদের স্বপ্ন দেখাটাই তো স্বাভাবিক।

আমার খুব ইচ্ছা হলো শুধু নেত্রকোনা-মোহনগঞ্জ রাস্তার দুই পাশের জমি ছাড়াও দূরে কোথাও গিয়ে দেখে আসি এবারের ধানের ফলনটা। আমি জেলা শিক্ষা অফিস, নেত্রকোনার উচ্চমান সহকারী আবদুল্লাহ যোবায়েরকে বিষয়টা বললাম। তিনিও সঙ্গে সঙ্গেই রাজি হয়ে গেলেন। তাঁর মোটরসাইকেলে করেই গত শুক্রবার (১১ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে দুর্গাপুরের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়ি। আমরা দুর্গাপুর যাচ্ছি শুনে আমাদের স্কুলের সহকারী শিক্ষক ইমরান তালুকদার (যাঁর বাড়ি দুর্গাপুর) আমাদের স্কুলেরই আরেকজন শিক্ষক দীপংকর সরকারকে নিয়ে সঙ্গী হলেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি দুর্গাপুর বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী উপজেলা। এখানে অনেক আদিবাসীর বাস। দুর্গাপুরে দেখার মতো অনেক কিছুই আছে। যাক সে কথায় পরে আসি।

নেত্রকোনা শহর থেকে বেরোনোর পরেই চোখে পড়ল আমার চিরচেনা আর ভালো লাগা ফসলের মাঠ। যত দূর চোখ যায় কাঁচাপাকা ধানে ভরা কোথাও সবুজ, কোথাও বা সোনালি ধানখেত। কী অপরূপ হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া দৃশ্য! আমি যেমন আশা করেছিলাম তার চেয়ে সুন্দর। কিছুক্ষণ যাওয়ার পর হাঁপানিয়া গ্রাম পেরিয়েই পেলাম কংস নদ। এই নদের মাছ খুব সুস্বাদু। যাহোক, আমরা মোটরসাইকেল থেকে নেমে নদীর পাড়ে গিয়ে দাঁড়ালাম। খুব সাধারণ কৃত্রিমতাবর্জিত অথচ কী অসাধারণ দেখতে। যাহোক, আবার এগিয়ে চললাম আমরা। একটু এগিয়েই কিছু দুরন্ত শিশুকে কাদাপানিতে মাছ ধরতে দেখলাম। ওদের না আছে করোনার ভয়, না আছে ঠান্ডা লাগার ভয়। ওদের দেখে আমার ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল। এভাবে অনেকক্ষণ ধরে মাছ আমিও ধরেছি। তখন ঠান্ডা লাগার ভয় আমারও ছিল না। এখন তো একটু বৃষ্টিতে ভিজেই শরীর খারাপ করে ফেলে। বেশ খারাপ। ওষুধ না খেয়ে ভালো হওয়ার সুযোগ থাকে না।

আমরা এগিয়ে চললাম। ফেরিঘাট পার হয়ে আর কিছুক্ষণ গিয়ে করণিয়া গ্রাম। সেখানে পেলাম ড্রাগন ফলের একটা বাগান। চারদিকে ধানখেত। মাঝখানে বাগান। ঢাকার একজন কৃষি উদ্যোক্তা তিন বছর আগে শুরু করেছেন এই ড্রাগনের চাষ। এ বছর জ্যৈষ্ঠ মাসে নাকি কিছু ফল ধরেছিল। দেখে ভালো লাগল। কৃষিতে আমাদের দেশে বিভিন্ন রকম পরীক্ষা–নিরীক্ষা চলছে। অনেকেই বিদেশি ফলের চাষ করে সফলতা পাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই আমাদের দেশে আঙুর, স্ট্রবেরি ইত্যাদি ফলের বাগান গড়ে উঠেছে। হয়তো এ ড্রাগন ফলের বাগানটিও একদিন আরও সম্প্রসারিত হবে। তখন এর দেখাদেখি আমাদের এলাকায় আরও এমন অনেক বাগান গড়ে উঠবে।

বাগানটা দেখে আবার এগিয়ে চললাম। একটু এগিয়ে রাস্তার পাশেই এক ধানখেতে চোখে পড়ল মেশিন দিয়ে ধান কাটার দৃশ্য। অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে সে দৃশ্য দেখছেন।

তবে আমাদের দেশে এমন দৃশ্য এখন আর বিরল নয়। কৃষিতে আধুনিকতার ছোঁয়ার এমন অনেক উদাহরণ এখন দেখা যায়। সাধারণ লাঙলের বদলে ট্রাক্টর, সাধারণ জাতের ধানের বদলে হাইব্রিড জাতের ধান, উন্নত প্রযুক্তিতে শাকসবজির চাষ ইত্যাদি অনেক কিছুই এখন চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা তো নতুন নতুন জাতের ধান আবিষ্কারের মাধ্যমে নীরব বিপ্লবই ঘটিয়ে ফেলেছেন। আমরা ছোটবেলায় এক কাঠা (১০ শতাংশ) জমিতে যেখানে এক–দুই মণ ধান হতে দেখেছি, সেখানে একই পরিমাণ জমিতে এখন সাত–আট মণ ক্ষেত্রবিশেষে ১০ মণ পর্যন্ত ধান উৎপাদন হয়ে থাকে। এর চেয়ে বড় বিপ্লব আর কী হতে পারে?

বিরিশিরিতে আমরা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি ও ডন বস্কো কলেজ দেখেছি। দুটি প্রতিষ্ঠানই খুব সুন্দর। এরপর আমরা গেলাম দুর্গাপরের বিরিশিরির সুরেশ্বরী নদীর ফেরিঘাটে। এই জায়গাটি বালু ব্যবসার জন্য বিখ্যাত। শত শত ট্রাকে কোটি কোটি টাকার বালু এখান থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় যায়। সে এক এলাহি কাণ্ড। মহান আল্লাহ তায়ালা কী পরিমাণ সম্পদ যে আমাদের দিয়ে রেখেছেন, তা এসব জায়গায় না গেলে বোঝা কঠিন। এই বালু উত্তোলন ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িয়ে আছে শত সহস্র মানুষের জীবন ও জীবিকা। এই ঘাট পার হলেই শিবগঞ্জ। এই শিবগঞ্জ থেকেই বিজয়পুর যেতে হয়। সেখানে আছে চিনামাটির পাহাড়। এই পাহাড় দেখতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসেন অনেক পর্যটক। তাই বিরিশিরি ঘাটে একটা ব্রিজ হওয়া জরুরি। এই ব্রিজটা খুব ব্যয়বহুল হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এ ধরনের আর্থিক সক্ষমতাও এখন আমাদের আছে। আমার বিশ্বাস, ব্রিজটা হলে এ এলাকার মানুষের বহুদিনের কষ্ট যে শুধু দূর হবে তা–ই নয়, এই এলাকার অর্থনৈতিক চালচিত্রও রাতারাতি পাল্টে যাবে।

শিবগঞ্জে আমাদের অভ্যর্থনা জানালেন এমকেসিএম সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, দুর্গাপুরের শিক্ষক (মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক) পীযুষ কান্তি সরকার (রাসেল হাজং)। তিনি এই এলাকারই মানুষ। বাকি সময়টা তিনিই আমাদের গাইড হিসেবে কাজ করেছেন। বলে নেওয়া ভালো, রাসেল হাজংসহ চারজন সঙ্গীর সহযোগিতায় আমার অভিজ্ঞতার ভান্ডার অনেকটা সমৃদ্ধ হলো। আমি তাঁদের অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। যাহোক, এখান থেকে আমরা গেলাম বিজয়পুর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোসংলগ্ন কমলাবাগানে। টিলার ওপর বাগানটি ভারতের সীমান্তের একদম কাছে। পাহাড়, টিলা এগুলো সবার কাছে খুব প্রিয়। এ পাহাড়ে ওঠার ব্যবস্থা রয়েছে। এখান থেকে ভারতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত পাহাড়গুলো খুব কাছ থেকেই দেখা যায়। অনেকে এ কমলাবাগান দেখতে আসেন। একটু পরিকল্পনা নিয়ে এ জায়গাটি সাজাতে পারলে জায়গাটি খুব আকর্ষণীয় হবে বলে আমার বিশ্বাস। আর এটি তখন হয়ে উঠবে লাভজনক একটি পর্যটনকেন্দ্র।

এরপর আমরা বিজিবি ক্যাম্প মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করলাম। নামাজের পর মসজিদের খুব কাছ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুমেশ্বরী নদীর পারে গেলাম। অসাধারণ সুন্দর এই নদীটার ওপারে ভবানীপুর নামের বাংলাদেশের ছোট একটা গ্রাম। এই গ্রামটি একেবারে ভারতের সীমানাঘেঁষা। এটাকে বলা যায় বাংলাদেশের করিডর। এরপরই ভারতের বেশ উঁচু উঁচু পাহাড়। দেখে মনে হলো সাতচল্লিশের দেশ বিভাগের সময় বড় বড় পাহাড়গুলো ভারত তাদের অধিকারেই রেখে দিয়েছিল। জিন্নাহ সাহেবেরা হয়তো এদিকে নজর দেওয়ার সময় পাননি অথবা নজর দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি।
এরপর আমরা গেলাম রাণীখং উচ্চবিদ্যালয়ে। স্কুলটি খুব পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর। স্কুলের পাশেই সুন্দর একটা টিলার ওপর গির্জা। গির্জাটিও খুব পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন ও নজর কাড়ার মতো পরিপাটি। বেশ ভালো লাগল জায়গাটি।

এখান থেকে আমরা গেলাম রাশিমণি মোড়ে। বহেড়াতলীর এ স্থানটিতে ব্রিটিশবিরোধী টংক ও কৃষক আন্দোলনের পথিকৃৎ নেত্রী, হাজংমাতা শহীদ রাশিমণির স্মরণে স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়েছে। নারীদের সম্ভ্রম রক্ষা আর কৃষকদের অধিকার আদায়ে আত্মনিবেদিত ও সম্মুখযুদ্ধে শহীদ এ সংগ্রামী নারীকে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সব মানুষসহ স্বাধীনতাকামী সব মানুষ অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

এরপর আমরা গেলাম বিজয়পুর চিনামাটি বা সাদা মাটির পাহাড়ে। এটি দুর্গাপুরের একটা গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র। এখান থেকে সাদা মাটি দেশের বিভিন্ন জায়গায় নেওয়া হয়। মূল্যবান এ মাটি আমাদের সিরামিকশিল্পের মূল কাঁচামাল। প্রকৃতপক্ষে এ এলাকার প্রায় সব গ্রামেই সাদা মাটি পাওয়া গেলেও বিজয়পুর বেশি জনপ্রিয় তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই। বিজয়পুরের মূল আকর্ষণ সাদা মাটির পাহাড় হলেও এখানে নীল পানির জলাশয় দেখা যায়। পানি এত স্বচ্ছ ও সুন্দর যে সব পর্যটকই এখানে গোসল করতে প্রলুব্ধ হবেন। কিন্তু ‘এখানে গোসল করা নিষিদ্ধ’ এমন সাইনবোর্ড দেওয়া আছে। আমাদের ধারণা হলো যে সাদা মাটি থেকে এমন কোনো গ্যাস বা ক্ষতিকর কোনো কিছু পানির সঙ্গে মিশতে পারে, যার ফলে গোসল করলে ত্বকের বা শরীরের ক্ষতি হতে পারে। অনেক উঁচু উঁচু টারশিয়ারি পাহাড়ে সমৃদ্ধ বিজয়পুর। পাহাড়ের পাদদেশে বিভিন্ন রহস্যময় গুহাও চোখে পড়ে। এ রকম দুটি গুহা আমরা দেখেছি। গুহাগুলো সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। কেউ কেউ বলেন যে এগুলো ব্রিটিশ সৈন্যদের বাংকার ছিল। অনেকে বলেন যে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধারা এ গুহাগুলোতে অবস্থান নেন।

এ চিনামাটির পাহাড়ের ওপর থেকে চারপাশের সমতল ভূমির ধানিজমির দিকে হঠাৎ দৃষ্টি পড়ল। অভিভূত হয়ে গেলাম। চারদিকে সবুজ গ্রাম। মাঝখানে সোনালি ধানখেতের অপূর্ব সমাহার। অদূরের নীল আকাশটা নেমে এসেছে গ্রামের পাশের মাটিতে। যেন আকাশ আর মাটির অপরূপ মিতালী। হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া দৃশ্য। পাহাড়ের ওপর থেকে দৃশ্যটা এত সুন্দর মনে হলো যে আমার মতো একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে এটা ভাষায় প্রকাশ করা কোনোমতেই সম্ভব নয়। এমন অসাধারণ একটা দৃশ্য দেখার জন্যই আমি বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলাম। কিন্তু এ পাহাড়ের ওপর থেকে যে আমার প্রত্যাশিত এমন দৃশ্যটা দেখতে পাব, তা আমি ভাবতেই পারিনি। সব মহান আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছা। তাঁর কাছে আমি কৃতজ্ঞ যে তিনি আমাকে এমন অপার সৌন্দর্যমণ্ডিত একটা দৃশ্য দেখিয়েছেন, যা আমি কোনো দিন ভুলতে পারব না। আসলে আমাদের আশপাশেই মহান আল্লাহ তায়ালা এমন অনেক দৃশ্য দিয়ে রেখেছেন, যেগুলো আমাদের চোখে পড়ে না। তাই আমরা অনেক পয়সা খরচ করে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে অনেক দূরে, কখনো বিদেশে যাই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য। আমি নিজেও আমেরিকা আর নিউজিল্যান্ডে গিয়ে সেখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে অভিভূত হয়েছি। কিন্তু একটা জিনিস আমরা লক্ষ্য/চিন্তা করি না, সেটা হলো সেসব দেশের মানুষ কষ্ট ও পরিকল্পনা করে তাঁদের প্রাকৃতিক পরিবেশকে সাজিয়ে নেন এবং নিয়মিত যত্ন নেন ও পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন রাখেন, যেটা আমরা করি না। তাঁদের মতো পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে পারলে আমাদের প্রকৃতিও এমন সুন্দর হবে বলে আমার বিশ্বাস। আর এটা করতে পারলে আমাদের দেশের সৌন্দর্য দেখার জন্য ইউরোপ আমেরিকা থেকেও পর্যটকেরা ছুটে আসবেন—এমনটা প্রত্যাশা করা অযৌক্তিক কোনো বিষয় হবে বলে আমি মনে করি না।

এবার আমাদের মূল ধানের বাম্পার ফলনের যুক্তিসংগত কিছু কারণ আছে। একটা কথা মনে রাখা ভালো, যেকোনো কাজে উদ্দীপনা পেলে মানুষ সে কাজটি ভালোভাবে করার প্রেরণা পান। বাংলাদেশের কৃষকেরা এখন বিভিন্নভাবেই সে উদ্দীপনাটা পাচ্ছেন। আগে ধান বিক্রি করে কৃষকের উৎপাদন খরচটাই উঠত না। কিন্তু বর্তমানে ধানের বাজারের যে অবস্থা তাতে কৃষকেরা ধান উৎপাদন করে বেশ লাভের মুখ দেখছেন। এ ছাড়া সেচ ব্যবস্থার উন্নতি, প্রয়োজনের সময় সার, কীটনাশক, উন্নত জাতের ধানের বীজ, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ইত্যাদির সহজলভ্যতা কৃষকদের উৎসাহী হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। বিশেষ করে শহরের সঙ্গে গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি হওয়ায় কৃষকেরা পণ্য পরিবহনে অনেক সুবিধা পাচ্ছেন। আর এর সব কটিই আমাদের কৃষি উৎপাদনে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। আর এতে বাড়ছে আমাদের সামগ্রিক উৎপাদন। এর ফলে আমাদের জাতীয় অর্থনীতিও চাঙা হচ্ছে। আমাদের এসডিজি অর্জনের জন্য এই অবস্থা ধরে রাখা জরুরি।

একটা বিষয় এখানে বলে রাখা ভালো। সম্প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে সামনের বোরো মৌসুমের সেচব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে আমাদের কৃষকেরা যাতে কোনো ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন না হন, সে দিকটা অবশ্যই লক্ষ রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, কৃষকেরা যদি উৎসাহ–উদ্দীপনা নিয়ে মনের শান্তিতে কাজ করতে পারেন, তবেই সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন বাড়বে, যা আমাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে। আর সে দিক বিবেচনায় রেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সব ধরনের কৃষিবান্ধব পদক্ষেপ নিয়ে আমাদের কৃষকদের মুখের চওড়া হাসিটাকে অমলিন রাখবেন—এমন প্রত্যাশা রইল।

* লেখক: মো. মোতাহার হোসেন, প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত), মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, মোহনগঞ্জ, নেত্রকোনা।

পাঠক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন