default-image

নীল আকাশে লাল ঘুড়ি উড়ছে। সুতা হাতে তরুণ–তরুণীরা ছুটছেন। ঘণ্টাব্যাপী ঘুড়ি উড়িয়ে এখন ক্লান্ত৷ বাদামতলায় বসে খানিকটা জিড়িয়ে নিলেন। দুপুরে গাছতলায় খেলেন আলু ভর্তার সঙ্গে পান্তা। এমনটাই দেখা গেল সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে। সকালে একদল শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে ঘোরাঘুরি করছেন। কেউ কলমের গায়ে সুতা প্যাঁচাচ্ছেন। কেউ কলার পাতা কেটে জড়ো করছেন। সবার মুখেই ছিল ঘামে ভেজা মাস্ক।

সেদিন ১৩ এপ্রিল। চৈত্র মাসের ও বসন্তের শেষ দিন৷ এ দিনকে বলা হয় চৈত্রসংক্রান্তি। একে ঘিরেই তাঁদের আয়োজন। এ নিয়ে ভেটেরিনারি অনুষদের নাজমুল হাসান বলেন, এ বছর করোনার কারণে সব আয়োজনেই জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ক্যাম্পাসের খেলার মাঠে ঘুড়ি উড়িয়ে পুরোনো বছরের সব দুঃখকে বিদায় জানান তাঁরা। লাল, নীল ও হলুদ কাগজের নৌকা পানিতে ভাসিয়ে পুরোনো বছরের গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়। পরে ট্রান্সপোর্ট চত্বরে পান্তা পর্বের মধ্য দিয়ে আয়োজনের ইতি ঘটে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

default-image

বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের আসাদুর রহমান বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ-তরুণীরাও সাংস্কৃতির চর্চা করে এবং তাঁরাও বাঙালির ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। তিনি আরও বলেন, ভরদুপুরের আড্ডায় উঠে আসে মুক্ত কল্পনা ও ছন্দ গানের খেলা। জরা ও ক্লেশজর্জরিত বিশ্বে বাঙালির উদ্যমের প্রতীক হোক চৈত্রসংক্রান্তির এই আয়োজন।
বাংলা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান ড. কৃষ্ণা ভদ্রা বলেন, গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্বপ্নের দিশারী। তরুণেরা যে বাঙালি কৃষ্টি লালন করে বেড়ে উঠছেন, তার প্রমাণ চৈত্রসংক্রান্তি পালন। শিক্ষার্থীদের আনন্দে প্রবাহিত ধারায় ভরে উঠুক স্বস্তি ও স্নিগ্ধতা, এ কামনা করছি।

শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সাংস্কৃতি চর্চায় এই ক্যাম্পাসের সুনাম অনেক দূরে এগিয়ে যাবে।

বিজ্ঞাপন
পাঠক কথা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন