বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এমনিতেই দুর্বোধ্য অর্থনীতিশাস্ত্র। তারপর মন্ত্রীর এহেন কথায় সাধারণ মানুষের মতো আমিও ভাবি, এই যে আমরা প্রতিদিন বড়লোক হচ্ছি, কিন্তু টের পাচ্ছি না একদম, এটা কীভাবে সম্ভব? কেন সাধারণ জীবনযাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস জোগাড় করতে গিয়ে আমাদের অধিকাংশ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। আমাদের মন্ত্রী মহোদয় অর্থনৈতিক পরিভাষায় যেটা বোঝাতে চেয়েছেন, তা অর্থনীতির ওই পরিভাষার হিসাব–নিকাশে বলেছেন। উনি বলেছেন, আমাদের মাথাপিছু আয় বাড়ছে। প্রচলিত অর্থনৈতিক হিসাবও সেটাই বলে। কিন্তু এই মাপকাঠির সঙ্গে বাস্তব অবস্থার মিল নেই এবং হবে না কখনোই। এর কারণ আছে বৈকি। মাথাপিছু আয়ের হিসাবটাই অনেকটা এর জন্য দায়ী। মাথাপিছু আয় বলতে মূলত, একটি দেশের মোট আয়কে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করলেই যা পাওয়া যায়, তাই মাথাপিছু আয়ের সহজ হিসাব।
বিষয়টি খুব সহজভাবে বুঝতে চেষ্টা করি।

ধরি, একটি কোম্পানিতে মোট কর্মকর্তা ১১ জন। এদের মধ্যে সর্বোচ্চ বেতনধারী কমকর্তার আয় বার্ষিক দুই লাখ টাকা। এরপর আছেন মধ্যম পর্যায়ের দুই কর্তা, যাদের আয় এক লাখ টাকা করে। এরপর আছেন পাঁচজন কর্মচারী, যাদের আয় ৫০ হাজার টাকা করে। এরপর আছে গাড়িচালক, যার বেতন ২০ হাজার টাকা। আর আছে পিয়ন আর ক্লিনার, যাদের আয় যথাক্রমে ২০ হাজার আর ১০ হাজার। সব মিলিয়ে ওই কোম্পানির কর্মকর্তা–কর্মচারীদের মোট বার্ষিক আয় সাত লাখ টাকা আর মাথাপিছু আয় হিসাব করলে দাঁড়াবে প্রায় ৬৩ হাজার ৬৩৬ টাকা করে। অর্থাৎ মাথাপিছু আয়ের হিসাবে ক্লিনারেরও আয় বার্ষিক ৬৩ হাজার ৬৩৬ টাকা করে। কিন্তু ক্লিনারের আসলেও কি বার্ষিক আয় এটি?

এখন আরেকটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি বুঝতে আরও সহজ হবে। ধরি, ছোট্ট একটি দেশে মাত্র ২০০ জন লোক বাস করে। তাদের সর্বমোট বার্ষিক আয় আট লাখ টাকা। মাথাপিছু আয়ের ফর্মুলায় যদি আমরা তাদের মাথাপিছু আয়ের হিসাব করি, তাহলে আট লাখ টাকাকে মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করব। তাহলে আমরা দেখতে পাব তাদের প্রত্যেকের মাথাপিছু আয় হচ্ছে চার হাজার টাকা। কিন্তু বিষয়টি এ রকম নয়। কারণ, দেশটিতে ছোট্ট একটা প্রশাসন আছে, যেখানে পাঁচজন কর্তাব্যক্তি আছেন এবং তাঁদের অধিকারেই আছে বার্ষিক আয়ের চার লাখ টাকা। এখন দৃশ্যপট ভিন্ন হয়ে যাবে। ৪ জনের মাথাপিছু আয় হবে ৮০ হাজার টাকা। আর বাকি ১৯৬ জনের মাথাপিছু আয় হবে ২ হাজার ৪১ টাকা মাত্র।

জাতীয় মাথাপিছু আয়ের বিষয়টি এ রকমই। আর এ হিসাবে আমরা সবাই রাত পোহালেই যে ধনী হচ্ছি, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ২০১৮-১৯ সালে আমাদের মাথাপিছু গড় আয় ছিল ১ হাজার ৯০৯ ডলার। আর এই কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে মাথাপিছু আয় বেড়ে গিয়েছে ১৫৫ ডলার। ২০২০ সালে সেটা হলো ২ হাজার ৬৪ ডলার। আমি আপনি অনেকেই কিন্তু মোটেই টের পাইনি যে আমাদের মাথাপিছু আয় প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকা। কিন্তু অর্থনীতির হিসাবে আমরা কিন্তু নিজের অজান্তেই বড়লোক হচ্ছি এবং ওপরের হিসাবে সেটা কিন্তু প্রমাণিত।

জিডিপিতে একটি দেশের নাগরিকের দ্বারা উৎপাদিত মোট আয়ের হিসাব থাকে। সরকার যখন বড় বড় প্রকল্পে টাকা খরচ করে, তাতেও জিডিপিও বাড়ে। অথচ এই মেগা প্রকল্পগুলোর কারণে অনেক মানুষ ঘরবাড়ি, কৃষিজমি হারায়। পায়রা বন্দর প্রকল্পের কথাই ধরি, দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ‘এই মেগা প্রকল্পটি করতে গিয়ে অন্তত ২০ হাজার একর জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে পায়রা বন্দরের জন্য প্রাথমিকভাবে ৭ হাজার ৭৪ একর, নৌবাহিনীর ঘাঁটির জন্য ২ হাজার ৩০০ একর, কয়লাভিত্তিক চারটি তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রায় ৪ হাজার একর, তেল পরিশোধনাগার নির্মাণের জন্য ১ হাজার একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তবে এলাকায় প্রচার আছে, পায়রা বন্দরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য ৮১ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে, যা মানুষের দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে। যদিও পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বন্দরের জন্য ৭ হাজার একর জমি অধিগ্রহণের অনুমতি তারা পেয়েছে। এই পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করা হবে ( দৈনিক প্রথম আলো, ১২ ডিসেম্বর ২০১৬)।’ আবার অন্য একটি আরেকটি সংবাদে পেয়েছিলাম, রাজধানীর যানজট নিরসনে সরকারের সবচেয়ে বড় প্রকল্প ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (উড়ালসড়ক) নির্মাণের ফলে ঘরবাড়ি হারাবে মোট ১ হাজার ২৫০টি পরিবার। এ প্রকল্পের আওতায় মোট ১৩০ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে ( বাংলানিউজ ডটকম, ২৫ জুন ২০২০)। আবার এসব জমি অধিগ্রহণের ক্ষতি পূরণের নামে যে কী প্রহসন চলে, তা তো আমরা অনেকেই জানি। ভাবছি, মাথাপিছু আয় নামক পরিভাষাটির হিসাবে নিশ্চয়ই এসব জায়গা–জমি হারানো লোকজনেরও আয় বেড়েছে এত দিনে। তাঁরাও ধনী হয়েছেন নিশ্চয়ই আগের চেয়ে?

আরেকটি মজার বিষয় বলি। আমরা যখন খরচ করি, তাতেও আমরা বড়লোক হচ্ছি। কি, বিশ্বাস হচ্ছে না? কিছুদিন আগে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ২৩ শতাংশ। এ কারণে পরিবহনভাড়া বেড়েছে ২৭ শতাংশ। ফলে রোজকার যাতায়াতের ভাড়া বেড়ে যাবে, সেই সঙ্গে জিনিসের দামও বেড়ে যাবে। এতে আমার আপনার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। কারণ, বাড়তি দাম দিয়ে আমাদের বাজার করতে হবে। আমাদের জীবনযাত্রার খরচ এতে বাড়বে। কারণ, আমরা এখন আগের চেয়ে বেশি খরচ করব। ওই দিকে পরিবহনমালিকদের আয় বাড়বে, এতে জিডিপিও কিন্তু বাড়বে। আর জিডিপির বৃদ্ধি মানেই তো মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি। এর ফলে কিন্তু আমরা নিজের অজান্তে আবারও বড়লোক হয়ে যাব। এখন বিশ্বাস হলো তো?

আসলে মাথাপিছু আয়ের হিসাবে একটি দেশে বসবাসরত জনগণের জীবনযাত্রার প্রকৃত অবস্থা বা তার আর্থিক অবস্থা কেমন, তা মোটেই বোঝা যায় না। এটি আমার আপনার প্রকৃত আয়ের বা আর্থিক অবস্থা আসলে কেমন, সেটার ধারও ধারে না। আমরা জানতে পারি না কার প্রকৃত আয় কতটুকু। কে কতটুকু সম্পদ তার ইচ্ছা অনুযায়ী ব্যবহার বা ভোগ করতে পারছেন, সেটা বোঝার কোনো উপায় নেই এই হিসাবে। এটি আসলে মানুষের জীবনের গল্প বলে না। যে গল্পে থাকে মানুষ সাধ্যের মধ্যে প্রয়োজনীয় ও চাহিদামাফিক জিনিস কিনতে পারছে কি না, রাস্তায় চলতে বাড়তি গাড়িভাড়া দিতে পারছে কি না, সন্তানের চাহিদা ঠিকঠাক মেটাতে পারছে কি না, সপ্তাহে অন্তত এক দিন বাসায় মাংসের জোগান করতে পারছে কি না— তার গল্প।
অর্থনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও মোটেই সহজবোধ্য নয়। আর আমাদের মতো আমজনতার অর্থনীতি বিষয়ে সাধারণ জ্ঞানটুকুও না থাকার ফলাফল তো ভয়াবহ। বিশেষ করে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্পর্কে আমজনতাকে যে ধারণা দেওয়া হয়, তার কতটুকু যথার্থ আর কতটুকু ভুল বোঝানো— তা বেশির ভাগ মানুষই ধরতে অক্ষম।

২.
১৯৬৬ সালের ঘটনা। কমিউনিস্ট-শাসক নিকোলাই চসেস্কু রোমানিয়ার শাসনক্ষমতা পাওয়ার এক বছর পর ঘোষণা দিলেন সব ভ্রূণহত্যা অবৈধ। তিনি গর্ভপাতকে নিষিদ্ধ করলেন। তিনি বললেন, এদের ওপর পুরো সমাজের অধিকার আছে। তার এই ঘোষণার পরবর্তী বছরেই রোমানিয়ার জন্মহার দ্বিগুণ বেড়ে গেল। একসময় রোমানিয়ায় জনসংখ্যার বিস্ফোরণ দেখা দিল। কিন্তু বর্ধিত এই জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান চসেস্কুর পক্ষে করা সম্ভব হয়নি। এর একটি কারণ ছিল তখনকার রোমানিয়ান সমাজে চসেস্কুর আত্মীয় বা কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য না হলে চাকরি–বাকরি পাওয়া অসম্ভব ছিল। এ কারণে জনসংখ্যার একটি বড় অংশ সাধারণ জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ে। একসময় তাদের অনেকেই অপরাধ জগতে পা বাড়ায়।

একসময় বীতশ্রদ্ধ আর অস্থির মানুষগুলো চসেস্কুর বিরুদ্ধে আন্দোলনেও নেমে পড়ল। ১৯৮৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর তিমোসোরাই শহরে চসেস্কুর শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলনে জড়ো হতে থাকে তারা। এদের মধ্যে অনেক কিশোর-কিশোরী ও কলেজের ছাত্রছাত্রী ছিল। তাদের একটাই দাবি— চসেস্কুর পতন হোক। অবস্থা বেগতিক দেখে চসেস্কুও তাঁর স্ত্রী রোমানিয়া থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁরা উত্তেজিত জনতার হাতে ধরা পড়েন। অবশেষে ২৫ ডিসেম্বর ক্রিসমাসের দিনে উন্মুক্ত স্থানে ফায়ারিং স্কোয়াডে প্রাণ হারান চসেস্কু ও তাঁর স্ত্রী। অথচ চসেস্কু ওই আইনটি না-করলে যারা তাঁকে হত্যা করল, তারা হয়তো জন্মাতেই পারত না। এ সেই তরুণ সমাজ, যারা চসেস্কুর অ্যাবরশনবিরোধী আইনের ফল। এমন এক আইন করলেন চসেস্কু, যার কারণে মরতে হলো তাঁকে।

আবার এর বিপরীতধর্মী আইন অর্থাৎ গর্ভপাতকে বৈধ করে অনেকটাই সুফল পেয়েছিল আমেরিকা। এমনই যুক্তি দেখিয়েছেন স্টিভেন ডি লেভিট নামের একজন অর্থনীতিবিদ আর স্টিফেন জে ডুবনার একজন সাংবাদিক। দুজনই আমেরিকান। দুজনে মিলে অর্থনীতি ও সমাজ বাস্তবতায় এর বিশ্লেষণ নিয়ে লিখেছিলেন ‘ফ্রিকোনমিকস’ নামের বইটি। বইটি ২০০৫ সালে প্রথম বের হয়। বইটিতে তাঁরা দৈনন্দিন জীবনের গতি-প্রকৃতি, সাধারণ মানুষের জীবনাচার, এসব আর্থসামাজিক বিষয় নিয়ে লিখেছেন। দৈনন্দিন জীবনের খুঁটিনাটি অনেক মজার প্রশ্নের দারুণ সব উত্তরের সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা চেয়েছেন সমাজ বাস্তবতার রূঢ় সত্য এবং এর গূঢ় রহস্যকে তুলে ধরতে।

১৯৯০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে যখন অপরাধের হার কমতে থাকে, তখন তার কারণ নিয়ে অনেক গবেষণা হয়। এক দশকের মধ্যে প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণাগ্রন্থে এর প্রধান বেশ কিছু কারণের মধ্যে অর্থনীতির চাঙা ভাবকেও একটি কারণ হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু লেভিটরা এই কারণকে অতটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ বলে মনে করেন না। তাঁদের মতে, ১৯৭৩ সালের ২২ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট একটি রায়ের সাহায্যে (রো বনাম ওয়েড) সারা দেশে অ্যাবরশন আইন বলবত করার কারণেই নাকি এই অপরাধের হার কমেছে।

তাঁদের সোজাসাপটা বক্তব্য হচ্ছে—একজন মা যখন সন্তান নিতে চান না, তার যথেষ্ট কারণ থাকে। তাই যখন সন্তান নিতে তাঁকে জোর করে বাধ্য করা হয়, তখন আকস্মিক ওই সন্তানের প্রতি মায়ের অযত্ন-অবহেলা বেশ প্রকটভাবে দেখা যায়। ওই সন্তানটির তখন অপরাধজগতে যাওয়ার আশঙ্কা সর্বাধিক থাকে। তাঁরা একটি পরিসংখ্যানের রেফারেন্স এনে বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের ওই রায়ের পরের বছরই সারা আমেরিকায় সাড়ে সাত লাখ অ্যাবরশন সংঘটিত হয়। ১৯৮০ সালে এই ছিল ষোলো লাখ। এই অনাকাঙ্ক্ষিত, অযাচিত সন্তান জন্ম না-নেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তার অপরাধের হার কমিয়েছে বলে তাঁরা প্রমাণ করেছেন।

২০১৪ সালে এসে তাঁরা দুজন মিলে লিখলেন ‘হাউ টু থিংক লাইক এ ফ্রিক’ বইটি। এই বইটিও তাঁদের ভিন্ন গোত্রের সব চিন্তাভাবনা নিয়ে লেখা। যেমন ইনসেনটিভ’ বা প্রণোদনার কথাই ধরি।

গত দিনগুলোতে অর্থনীতিতে একটা বদ্ধমূল ধারণা হয়েছে যে ‘ইনসেনটিভ’ বা প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে পারলে মানুষকে দিয়ে কাঙ্ক্ষিত কাজটি করিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু এর যে উল্টো দিক আছে, অর্থনীতিবিদেরা সাধারণত সেটা বলেন না। লেভিটরা মনে করেন, ইনসেনটিভ অনেক সময় গোলমাল পাকিয়ে ফেলতে পারে। তাঁরা আমেরিকার একটি প্লে স্কুলের উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। ওই স্কুলে বেশ কিছু অভিভাবক স্কুল ছুটি হয়ে যাওয়ার অনেক পরে বাচ্চাদের আনতে যেতেন। ফলে শিক্ষিকাদের স্কুলে আটকে থাকতে হতো অনেক বেশি সময়। স্কুল কর্তৃপক্ষ ভাবল, দেরিতে বাচ্চা নিতে এলে জরিমানা দিতে হবে। এটা ইনসেনটিভ। আর উল্টো দিকেরটা হচ্ছে—বাচ্চাকে সময়মতো ফিরিয়ে নিলে আর জরিমানা দিতে হবে না। কিন্তু ফল দাঁড়াল উল্টো। দেখা গেল, আরও অনেক বেশি দেরি করছেন অভিভাবকেরা। এর কারণ, শিক্ষিকাদের স্কুলে বসে থাকতে বাধ্য করার ফলে অভিভাবকদের মনে আগে যে অপরাধ বোধ কাজ করত, জরিমানা এসে সেই অপরাধ বোধকে উড়িয়ে নিয়ে গেল। অভিভাবকেরা জরিমানার অন্তর্নিহিত তিরস্কারটাকে পাত্তাই দিলেন না, বরং তাঁদের মনে এই ধারণা বদ্ধমূল হলো—জরিমানার টাকাটা আসলে শিক্ষিকাদের ওভারটাইম। তাঁরা বেশি কাজ করাচ্ছেন বটে, কিন্তু তার বিনিময়ে সেটি পুষিয়ে দিচ্ছেন জরিমানা তথা মজুরি দিয়ে। অতএব এখন আর দেরি করলেও কোনো সমস্যা নেই।

ব্যাপারটা তাহলে কী দাঁড়াল? আসলে, দুনিয়াটাকে অর্থনীতির চশমায় দেখার প্রশিক্ষণ আমাদের অনেকেরই আছে। কিন্তু কেবল এই চশমা দিয়ে দেখলে আমাদের পক্ষে অনেক জিনিসের মর্মোদ্ধার করা কঠিন হবে। জরুরি অনেক সমস্যা আমাদের চোখে পড়বে না।
লেখক: ব্যাংকার

পাঠক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন