বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অফিস ছিল লন্ডন শহরের লেইডেনহল স্ট্রিটে। চারতলা ভবনের এ অফিসটির নাম ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া হাউস। ১৮৫৮ সালে ব্রিটিশ সরকার সিপাহী বিদ্রোহের পর কোম্পানিকে গুটিয়ে ফেলার ঘোষণা দেয়। আর এ লক্ষ্যে তারা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জরুরি দলিল–দস্তাবেজ এবং কাগজপত্র সব হোয়াইট হলে অবস্থিত ইন্ডিয়া অফিস নামক অফিসে স্থানান্তর শুরু করে। ১৮৬০ সালে পুরোপুরি খালি করে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার ভবনটি একটি প্রাইভেট কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেয়।

বর্তমানে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ওই চারতলা ভবনটি আর নেই। এটি পুরোপুরি ভেঙে সেখানে একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। সেটিও নির্মাণ করা হয়েছে আজ থেকে প্রায় দেড় শ বছরেরও বেশি সময় আগে। বর্তমানে এ ভবনটিতে একটি ব্যাংকের শাখা অফিস রয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, ভবনটির দেয়ালে কিংবা আশপাশে কোথাও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আড়াই শ বছরের ইতিহাসের বিন্দুমাত্র কোনো চিহ্ন নেই। কোনো ফলক নেই। কোনো তথ্য ও আশপাশে কোথাও লেখা নাই। ঐতিহ্যপ্রিয় ব্রিটিশরা এই জায়গায় এসে ইতিহাসের এ তথ্যটি গর্বের সঙ্গে জানাতে নারাজ। কিন্তু কেন? যারা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং এই উপমহাদেশে ব্রিটিশ উপনিবেশবাদের ইতিহাস জানেন, তাঁদের অনেকেই নিশ্চয়ই কারণটা আঁচ করতে পারছেন।

২.
উইলিয়াম ডালরিম্পল একজন স্কটিশ ইতিহাসবিদ। ডালরিম্পলের লেখালেখির একটি অংশজুড়ে রয়েছে ভারতীয় উপমহাদেশে উপনিবেশ শাসনকাল। এই বিষয়ে তাঁর রচিত বইগুলো হচ্ছে—হোয়াইট মোগলস (২০০২), দ্য লাস্ট মোগল: দ্য ফল অব এ ডাইনেস্টি ইন দিল্লি, ১৮৫৭ (২০০৬), কোহিনূর: দ্য হিস্ট্রি অব দ্য ওয়ার্ল্ডস মোস্ট ইনফেমাস ডায়মন্ড (২০১৭) এবং ‘দ্য এনার্কি-দ্য রিলেন্টলেস রাইজ অব ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’(২০১৯)। তাঁর ‘দ্য এনার্কি-দ্য রিলেন্টলেস রাইজ অব ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’(২০১৯) বইটি মূলত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইতিহাস ও এই উপমহাদেশে এর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে একখানা আখ্যানধর্মী রচনা। ডালরিম্পল তাঁর এ বইটিতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জন্ম থেকে এর দানবীয় উচ্চতায় পৌঁছানো পর্যন্ত এবং পরে এটি অবলুপ্ত হওয়া পর্যন্ত কাহিনি বর্ণনা করেছেন সাবলীলভাবে। কোম্পানির উত্থানে যাদের ভূমিকা রয়েছে, তাদের কথা তো আছেই, আর সেই সঙ্গে আরও আছে এই উপমহাদেশে তাদের বিভিন্ন যুদ্ধ ও আক্রমণের গল্প। ভারতীয় ও ব্রিটিশ দুই উৎস থেকেই প্রাচীন অসংখ্য রেফারেন্স ঘেঁটে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উত্থানের গল্প বলেছেন। তিনি তথ্য নিয়েছেন ওই সময়ে রচিত সমসাময়িক ইতিহাস গ্রন্থ থেকেও। অষ্টাদশ শতকে রচিত গোলাম হুসেন খানের বই সিয়ার উল মুতাখখিরিনের মধ্যে একটি। সমসাময়িক ঐতিহাসিক বই হিসেবে মোগল আর বাংলার নবাবদের সঙ্গে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিভিন্ন ঘটনার নির্ভরযোগ্য বর্ণনার উৎস হিসেবে এটি নিঃসন্দেহে একটি মূল্যবান বই।

এ উপমহাদেশ, যা একসময় বিশ্বের অন্যতম একটি অর্থনৈতিক শক্তি ছিল, সেটি কীভাবে এই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দ্বারা শোষিত হয়ে একটি উপনিবেশ রাষ্ট্রে পরিণত হয়, সেই আদ্যোপান্ত নিয়েই রচিত তাঁর এই বইখানা। বইখানার শুরুর দিকে তিনি লিখেছেন, ‘অষ্টাদশ শতকের মধ্যভাগে ভারতের একটি বিরাট অংশ দখলের সূচনা হয়েছিল ব্রিটিশরাজ দ্বারা নয়, বরং একটি বিপজ্জনকভাবে অনিয়ন্ত্রিত ব্রিটিশ কোম্পানি দ্বারা...ভারতের একটি উপনিবেশ রাষ্ট্রে রূপান্তর সংঘটিত হয়েছিল একটি মুনাফালোভী বাণিজ্যিক করপোরেশন দ্বারা, যে করপোরেশনটি কেবল টিকে ছিল এর বিনিয়োগকারীদের সমৃদ্ধ করার জন্য। পৃষ্ঠা-৩২।

ডালরিম্পল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এসব কার্যকলাপকে সরাসরি নৈরাজ্য বলতে একটুও ইতস্তত বোধ করেননি। বইটির নামকরণেও তিনি এই শব্দ ব্যবহার করেছেন। এই নৈরাজ্যের সূচনা হয়েছিল ষোড়শ শতাব্দীর একেবারে শেষের দিকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জন্ম দিয়ে। ইস্ট ইন্ডিজ অঞ্চলে ডাচদের তৎকালীন বাণিজ্যিক সফলতা দেখে ব্রিটেনের কিছু ব্যবসায়ী মিলে সিদ্ধান্ত নিলেন, রানি এলিজাবেথ প্রথম–এর কাছে পিটিশন দেওয়ার। পিটিশনের উদ্দেশ্য তাঁদের একটাই, কোম্পানি গঠনের মাধ্যমে একচেটিয়া ব্যবসার উদ্দেশ্য ইস্ট ইন্ডিজের দিকে সমুদ্রযাত্রার জন্য রয়েল চার্টার তথা রাজকীয় সনদ লাভ। তাঁদের আবেদনে সাড়া দিলেন রানি এলিজাবেথ প্রথম। ফলে এই রাজকীয় সনদও পেয়ে গেলেন তারা ১৬০০ সালের ৩১ ডিসেম্বর। কোম্পানি গঠনের প্রায় আট বছর পর ১৬০৮ সালের ২৮ আগস্ট ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রথম বাণিজ্য জাহাজ হেক্টর গুজরাটের সুরত বন্দরে এসে নোঙর ফেলে। জাহাজটির ক্যাপ্টেন ছিলেন উইলিয়াম হকিন্স। ওই সময় ভারত ছিল মোগল শাসনাধীন। আর এরপরের বাকি কয়েক শ বছর তো ইতিহাস।

default-image

১৭৫০ সালের দিকে এসে দেখা গেল ব্রিটেনের আট মিলিয়ন পাউন্ডের আমদানি বাণিজ্যের মধ্যে এক মিলিয়ন পাউন্ডের আমদানি বাণিজ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি একাই করছে। একসময় দেখা গেল এটি কেবল বাণিজ্য করতে আসেনি। এসেছে শাসন, শোষণ, যুদ্ধবিগ্রহ ও লুটপাট করতে। আর এসব করার জন্য কোম্পানির নিজস্ব সেনাবাহিনীও ছিল। ১৭৫৭ সালে ক্লাইভের কূটচালে তারা কার্যত বাংলা–বিহার–ওডিশার শাসক হয়ে বসল। ১৭৬৫ সালে পরাজিত মোগল সম্রাট শাহ আলমকে তারা বাধ্য করেছিল রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব সেনাবাহিনী কর্তৃক সুরক্ষিত কোম্পানির হাতে দেওয়ার জন্য। এ দায়িত্ব পাওয়ায় পরপরই বলা যায় বাণিজ্যিক কোম্পানিটি নিজেকে একটি উপনিবেশ শক্তিতে রূপান্তর করেছিল। অষ্টাদশ শতকের মধ্যে এটি মোগল শাসনাধীন সমৃদ্ধশালী সব কটি প্রদেশ তাদের দখলে নিয়ে নিয়েছিল। বর্তমান বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত ও আফগানিস্তানের অর্ধেক ছিল তাদের অধীন।
কোম্পানিটি এত ক্ষমতাশালী হয়ে উঠেছিল যে ওই সময় কোম্পানির একজন পরিচালক বলেছিলেন, ‘এটি যেন একটি সাম্রাজ্যের মধ্যে ছিল, আরেকটি একটি সাম্রাজ্য হয়ে উঠেছিল।’কোম্পানিটি এত ক্ষমতা অর্জন করেছিল যে চাইলেই এটি পূর্বের যেকোনো স্থানে যুদ্ধ বা শান্তি স্থাপন করতে পারত। কেবল তা–ই নয়, কোম্পানিটি ব্রিটিশদের জন্য একটি বিস্তৃত এবং অত্যাধুনিক প্রশাসন ও সিভিল সার্ভিস তৈরি করেছিল। এটি একটা সময়ে ওই সময়ের ব্রিটেনের বাণিজ্যের এক–চতুর্থাংশ নিয়ন্ত্রণ করত। শুধু ব্রিটেনের মধ্যে এর বার্ষিক ব্যয় ব্রিটিশ সরকারের মোট বার্ষিক ব্যয়ের প্রায় এক–চতুর্থাংশের সমান ছিল। এর সেনাবাহিনী প্রায় সব দেশ-রাজ্যের সেনাবাহিনীর চেয়ে বড় ছিল।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এই বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক উত্থান পরে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছিল। ১৭৭০ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষের সময় থেকেই বলা যায় এর সূচনা। তা ছাড়া কোম্পানির লুটপাটের ফলে ভারতবর্ষের সবচেয়ে ধনী প্রদেশগুলোর অবস্থার একসময় এত অবনতি হয় যে একসময় কোম্পানির প্রত্যাশিত রাজস্বের ব্যাপক ঘাটতি দেখা দেয়। কোম্পানিটি একসময় নিজের দেনা ও নিয়মিত শোধ করতে পারছিল না। পরিস্থিতি একবার এমন দাঁড়ালো যে দেখা গেল ব্রিটিশ ক্রাউনের কাছে কোম্পানির দেনা ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন পাউন্ড এবং আয়কর ১ মিলিয়ন পাউন্ড বকেয়া রয়ে গেছে। পরিশোধ করতে পারছে না। উপায় না দেখে কোম্পানির পরিচালকেরা ১৭৭২ সালের ১৫ জুলাই চার লাখ পাউন্ড লোনের জন্য ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের কাছে আবেদন করেন। আগস্টের মধ্যে, পরিচালকেরা সরকারের কাছে জানিয়েছিলেন তাদের আসলে আরও এক মিলিয়ন পাউন্ডের প্রয়োজন হবে। যা–ই হোক, পরের বছর ব্রিটিশ সরকার কোম্পানিকে বাঁচানোর জন্য আর্থিক সাহায্য নিয়ে এগিয়ে এলো। বর্তমানে আমরা যাকে বেইল আউট বলি। এটি করা ছাড়া সরকারের উপায়ও ছিল না। কারণ, এক অফিসিয়াল রিপোর্টে ওই সময় বলা হয়েছিল, কোম্পানির এই অর্থনৈতিক সমস্যা তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের পতনকে তরান্বিত করবে। এমনকি দেশ হিসেবে ব্রিটেন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে। কারণ, কোম্পানিটি আকারে ও কর্মকাণ্ডে তত দিনে অনেক বিশাল হয়ে গেছে। এরপর কোম্পানি তার কার্যক্রম চালিয়ে গেল পরবর্তী কয়েক দশক পর্যন্ত।

ডালরিম্পল লিখেছেন, ১৮২৫ সালের দিকে

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অব্যাহত অস্তিত্বের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে অনেকেই বিরোধিতা শুরু করেন। একজন এমপি তো বলেই বসলেন, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অস্তিত্ব ও উপস্থিতি একসময় বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়াতে পারে খোদ ব্রিটেনের জন্য। এটি দেশ হিসেবে ব্রিটেনের স্থিতিশীলতাও নষ্ট করতে পারে। তা ছাড়া কোম্পানির ওপর ব্রিটিশ পার্লামেন্টের খুবই দুর্বল প্রভাব ও ক্ষমতা ছিল। (পৃষ্ঠা-৪০০)।

১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ দমনে কোম্পানিকে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সাহায্য নিতে হয়েছিল। বলা যায়, এ ঘটনা কোম্পানির সমাপ্তিকে ত্বরান্বিত করেছিল। পরের বছরই ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ভারত সরকার আইন প্রবর্তন করে। এর শর্তাবলি অনুসারে, ব্রিটিশ ক্রাউন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং সেই সঙ্গে এর অধীনস্থ অঞ্চলগুলোরও। যেহেতু এটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অংশ ছিল, তাই রানি ভিক্টোরিয়া হলেন শাসক এবং শিগগির ভারতের সম্রাজ্ঞী উপাধি গ্রহণ করলেন। আর ১৮৭৪ সালে সনদের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্যিক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বিলুপ্ত হয়ে যায়।

default-image

৩.
ডালরিম্পলের বইতে ভাবনার বেশ খোরাক রয়েছে। এটি যদিও আসলে একটি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া চার শ বছরের পুরোনো কোম্পানিকে নিয়ে লেখা, কিন্তু এটি বর্তমান বিশ্বের জন্য একটি সতর্কবার্তা বহন করছে। বার্তাটি হচ্ছে, কীভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত লোভী সরকারের যোগসাজশে বহুজাতিক কোম্পানির করপোরেট লোভ একটি দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে পারে, তা থেকে সতর্ক থাকা। কারণ, ইস্ট কোম্পানির পতনের অনেক পরও আমাদের কাছে ইতিহাসে করপোরেট অপরাধের পুনরাবৃত্তির নজির আছে।

ব্যাপারটি একটু খোলাসা করে বলি। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এখন আর নেই। কিন্তু এই কোম্পানির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পুরোপুরি মিল না থাকলেও এর সমান্তরাল কর্মকাণ্ড কিন্তু এখনো বিদ্যমান। বাণিজ্যিক ধরনের কারণে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে একটি বহুজাতিক কোম্পানি বলা যায় নিঃসন্দেহে। এটিকে বিশ্বের প্রথম বহুজাতিক কোম্পানি বললেও অত্যুক্তি হবে না মোটেও।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আইনজীবী, লবিস্ট এবং এর কিছু শেয়ারহোল্ডার ছিলেন যাঁরা ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্যও ছিলেন। তাঁরা সূক্ষ্মভাবে তাই এর পক্ষে আইনকে প্রভাবিত করার জন্য কাজ করতেন। বলা যায়, করপোরেট লবিং তারাই আবিষ্কার করেছিল। ১৬৯৩ সালে, প্রতিষ্ঠার প্রায় এক শতাব্দীরও কম সময়ের মধ্যে, কোম্পানিটি সংসদ সদস্যদের কেনার জন্য তার নিজস্ব শেয়ার ব্যবহার করে। পরবর্তীকালে এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্রিটিশ সরকার। তখন কোম্পানিটি ঘুষের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয় এবং কোম্পানির গভর্নরকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

ব্যবসা করার জন্য পুরোনো এই কৌশল কিন্তু এখনো বিদ্যমান। আমরা নিকট অতীতে দেখেছি, বড় করপোরেশনগুলোর লবিংয়ের জোরে অনেক দেশে সরকারের পতনের। অ্যাংলো–পারসিয়ান তেল কোম্পানির উসকানিতে ১৯৫৩ সালে ইরানের সরকারের পতন, ইউনাইটেড ফ্রুট কোম্পানির, যার অধীন গুয়েতেমালার ৪২ শতাংশ জমির মালিকানা ছিল, লবিংয়ের কারণে আমেরিকান সিআইএ এর মদদে সেখানে মিলিটারি সরকারের আগমনের ঘটনা তো তারই ধারাবাহিকতা। চিলির সালভাদর আলেন্দের পতন কিংবা ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বধীন আক্রমণের পেছনেও একই কারণ রয়েছে। এসব দেশে ব্যবসার জন্য তেল কোম্পানি এক্সন মবিলের লবিংয়ের কথা এখন আর অজানা নয়।

ডালরিম্পল তাই মনে করেন, ‘Corporate influence, with its fatal blend of power, money and unaccountability, is particularly potent and dangerous in frail states where corporations are insufficiently regulated, and where the purchasing power of a large company can outbid or overwhelm an underfunded government। পৃষ্ঠা-৪০৫।’

যদিও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মকাণ্ডের সমতুল্য কোম্পানি এখন আর নেই, কিন্তু একেই বর্তমান বহুজাতিক বড় বড় করপোরেশনের আদি রূপ হিসেবে ধরা যেতে পারে। এখনকার বড় কর্পোরেশনগুলো হয়তো ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মতো সেনাবাহিনী নেই, কিন্তু তারা সরকারের ওপর বহুলাংশে নির্ভর করে তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় রক্ষার্থে। এমনকি অনেক সময় আর্থিক প্রয়োজনে।


লেখক - কলামিস্ট।

পাঠক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন