বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এক পূর্ণিমার রাত। আকাশে চাঁদের ঝলমলে আলো। কিন্তু বাইরে প্রচুর ঠান্ডা। রক্ত জমে যাওয়া অবস্থা। এর মধ্যে বাড়িওয়ালার স্ত্রী মেয়েটিকে বাইরে থেকে বালতি ভরে পানি আনতে বললেন। শীতে জবুথবু হয়ে পানি আনতে বেরিয়ে গেল মেয়েটি। কুয়ার কাছে এল ঠিকই, কিন্তু পা যেন ঠান্ডায় পাথর, চলছেই না। কুয়ার পানির ওপরের অংশটাও বরফ হয়ে আছে। অনেক কষ্টে বরফ ছিদ্র করে কোনোমতে বালতি ভরে পানি ওঠাল ছোট্ট মেয়েটি। ভরা বালতি নিয়ে প্রায় বাড়ির আঙিনায় এসে পৌঁছাল, কিন্তু হঠাৎ তার পা পিছলে বালতির সব পানি মাটিতে পড়ে গেল।

তার কপালে আজ শনি আছে। খুব ভয় পাচ্ছে, কী করে খালি বালতি নিয়ে ঘরে ঢুকবে। বাড়িওয়ালার স্ত্রীর ভয়ংকর মুখটা তার সামনে ভেসে উঠল। দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে সে। ভয়ে তার হাত-পা কাঁপছে। আকাশে তখন ঝলমলে চাঁদ। ছোট্ট মেয়েটি চাঁদকেই আপন মনে করে বলল, ‘চাঁদ মামা, দেখো, আমার কত দুঃখ! তুমি কি আমাকে একটু সাহায্য করতে পারো না? তুমি আমাকে বাঁচাও, নইলে বাড়িওয়ালা আর তাঁর অত্যাচারী স্ত্রী আমাকে মেরেই ফেলবে।’

মেয়েটির ভারাক্রান্ত মন দেখে চাঁদেরও দুঃখ হলো। তাকে সান্ত্বনা দিতে চাঁদ নেমে এল জমিনে। চাঁদ এক সুদর্শন বালকের আকৃতি নিয়ে এসেছে। ধবধবে সাদা কাপড় পরা। কী সুন্দর। যেন স্বর্গের দূত। চাঁদের বড় ভাই সূর্যও মেয়েটির অভিযোগ শুনে নেমে এসেছে পৃথিবীতে। ইয়া বড় এক পুরুষের বেশে খুব সুন্দর লাগছিল তাকে। সূর্যের পরনে ছিল সোনালি রঙের পোশাক। সূর্য চাঁদকে বলল, ‘আমি দুঃখী মেয়েটিকে নিয়ে যেতে এসেছি, ওকে আমার কাছে দিয়ে দাও। কেননা, আমি ওর প্রতি ভালো খেয়াল রাখতে পারব। কারণ, আমি তোমার চেয়ে বড়।’

চাঁদ ছিল খুব চালাক। সে খুব কৌশলে সূর্যকে উত্তর দিল, ‘এটা ঠিক যে তুমি আমার বড়। কিন্তু দেখো সূর্য ভাই, এখন রাত, আর আমি রাতের রাজা। মেয়েটিও আমার কাছেই সাহায্য চেয়েছে। এ জন্য আমিই তাকে নিয়ে যাব।’ এ কথা বলে চাঁদ মেয়েটিকে কোলে তুলে আকাশে উড়ে গেল। তখন থেকে ছোট্ট মেয়েটি চাঁদেই বসবাস করতে লাগল। শিশুরা, পূর্ণিমার রাতে যখন তোমরা চাঁদের দিকে তাকাবে, তখন ওই মেয়েকে তোমরা হাসতে, গাইতে দেখবে। সে এখন আগের মতো দুঃখী নয়; খুব সুখী।

পাঠক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন