বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সেদিন আমিও একখণ্ড ফাঁকা নালায় পড়ব পড়ব করে কোনো রকমে রক্ষা পেয়েছিলাম। ভাগ্যিস আমার মেয়েটা পড়েনি। এতগুলো কাউন্সিলরের কাজ কী তবে? মাসিক মিটিং অন্তত এই নালাগুলোর উপরিতলের বেহাল হওয়ার কথা তো বলাই যায়। লোহার পাটাতন ব্যবহার করে স্থায়ী কংক্রিট-মিক্সচারের ঢালাই কি খুব ব্যয়বহুল? কেন পথচারী ফুটপাতে হাঁটতে গিয়ে প্রাণ হারাবে? এর দায় কে নেবে? নিশ্চয়ই এই দায় নগরপিতার ওপর বর্তায়। যার যায় সে কেবল বোঝে। এতে রাষ্ট্রের কীই–বা যায় আসে! কয়েক দিন পর উনিশে পা রাখা ভবিষ্যৎ প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর মেয়েটির নর্দমায় ডুবে মরার কথা সবাই ভুলে যাবে কালের স্বাভাবিক নিয়মে। কিন্তু তার পরিবার কি পারবে একটি জীবনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে? পথঘাটে মোড়ে মোড়ে ট্রাফিক। তাদেরও কি চোখে পড়ল না যে ফাঁকা নালা! এত বড় দুর্ঘটনা ঘটে কেমনে? গত আগস্টের টানা বর্ষণে আরও একজন ব্যক্তি নালায় পড়ে মারা যান।

এটা কেমন অনিরাপদ চট্টগ্রাম শহর, যা রক্ষার মতো কোনো হৃদয়বান নগর, সিডিএ পিতা–মাতা নেই! শুধু শাসন, আইন আর ক্ষমতা কুক্ষিগত করলেই হয় না আসলে। প্রকৃত দায়িত্ব ও কর্তব্য আমরা পালন করতে ব্যর্থ বলেই আজ একজন ভবিষ্যৎ দেশের সম্পদ প্রকৌশলীকে আমরা চিরতরে হারালাম। এখন দেখি আবার তারা নিজেরা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেওয়া আরম্ভ করেছেন। আপনারা গদি পাহারা, সেমিনারে ভাষণ না দিয়ে একেক দিন একেক এলাকা ছদ্মবেশ নিয়ে ঘুরুন। নিজেই সব সমস্যা দেখতে পাবেন এবং সমাধানও খুঁজে পাবেন। জনগণের সেবক হওয়ার মতো মহৎ কাজ পৃথিবীতে আর একটিও নেই। একজন আরেকজনের দোষ ধরতেই ব্যতিব্যস্ত হলে প্রকৃত সমস্যার সমাধান হবে না। এদিকে সিটি করপোরেশন ও সিডিএর পাটা–পুতার ঘষাঘষিতে মরিচ নামক নগরবাসীর ত্রাহি অবস্থা। অযথাই মরছে মানুষ। এসব অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর দায়ভার কে বা কারা নেবে? ফুটপাতে হাঁটতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করার ঘটনা বিশ্বে বিরল এবং খুবই হতাশাব্যঞ্জক।

একজন মানবিক গুণসম্পন্ন শাসকই কেবল ফুটপাতে হাঁটা পথচারীর দুঃখ বুঝতে সমর্থ হবেন। জীবনের মূল্য বুঝতে সক্ষম হবেন। একটু বেশি বৃষ্টি হলেই বাসা থেকে বের হওয়া মুশকিল হয়ে পড়ে আমাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষদের। চট্টগ্রাম শহর পানিতে তলিয়ে যায় একপশলা ভারী বর্ষণে। অফিস যেতে বিড়ম্বনা, গাড়ির সমস্যা—কোনটা নেই এই শহরে?

আমরা চাই অনতিবিলম্বে ড্রেনের সংস্কারকাজ শেষ হোক। প্রয়োজনে অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগ দিন। এভাবে আর চলতে পারে না। আমাদের প্রত্যাশা সবুজায়নে একটি সুশৃঙ্খল, শান্তিময় আর যানজটবিহীন চট্টগ্রাম নগরী। রাস্তার পাশে সব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে ফুটপাত তৈরি করুন। রাস্তা আরও প্রশস্ত করা হোক, যাতে সড়ক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। নালা–নর্দমার ওপর দয়া করে ফুটপাত তৈরি করবেন না। এতে ভবিষ্যতে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা থেকে যায়। পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা জোরদার হোক। নদীর নাব্যতা সৃষ্টি করা হোক। পলিথিনসহ যাবতীয় ময়লা–আবর্জনা রিসাইকেল করে গ্যাস উৎপাদন সম্ভব। এতে গ্যাস–সংকট অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

স্বপ্ন বুকে আকাশ দেখে চলতে গিয়ে আর যেন কোনো পথচারী মৃত্যুকূপ নালা–নর্দমায় ডুবে বীভৎস মৃত্যুর মুখে পতিত না হয়—আমরা চট্টগ্রামবাসীর এটি হৃদয়ের চাওয়া। আমাদের প্রিয় চট্টগ্রাম অর্থনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। চট্টগ্রাম ছাড়া বাংলাদেশ পঙ্গু দশার নামান্তর বৈকি। তাই চট্টগ্রামকে নিরাপদ, নির্ঝঞ্ঝাট করতে দ্রুত ফলপ্রসূ পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
*লেখক: পারভীন আকতার, শিক্ষক ও কবি, চট্টগ্রাম

পাঠক কথা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন