বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রমনা লোকাল বন্ধের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছে ৯ উপজেলার নিম্নœআয়ের সাধারণ যাত্রী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ট্রেন বন্ধ থাকার কারণে যাত্রীদের বাসে গুনতে হচ্ছে বেশি টাকা। অপর পক্ষে ব্যবসায়ীদের মালামাল ট্রাক, পিকআপ ভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা দিয়ে বেশি টাকা ব্যয়ে মালামাল পরিবহন করতে হচ্ছে। এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া রমনা লোকাল বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পড়েছে রেলকেন্দ্রিক পেশাজীবীরা। এর দায় কে নেবে?

গত ১৯ আগস্ট থেকে করোনার কারণে দেশের বন্ধ সব ট্রেন চালু হলেও কুড়িগ্রামের খেটে খাওয়া মানুষের একমাত্র বাহন ‘রমনা লোকাল’ ট্রেনটি এখনো চালু হয়নি।

গত ২৫ আগস্ট সন্ধ্যায় রংপুর থেকে কুড়িগ্রামে আসা শাটল ট্রেনটি কিছুক্ষণ অবরোধ করে রমনা লোকাল ট্রেনটি চালুর দাবিতে মানববন্ধন করে টিম কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস, রেল–নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটি, কুড়িগ্রাম জেলাবাসীসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। রমনা লোকাল চালু না হলে কঠোর আন্দোলনে নামার হুমকি দিলেও রেল কর্তৃপক্ষ নির্বাক।

ট্রেনটি কবে আবার যাতায়াত করবে—এ নিয়ে প্রশ্নের শেষ নেই যাত্রীদের। এর আগে বলত, ‘দশটার ট্রেন কয়টায় যায় বাহে? আর এখন বলে, বাহে রমনা লোকাল কি মরছে?’ তারা প্রতীক্ষায় আছে। কবে আবার বেজে উঠবে রমনা লোকালের হুইসেল। আবার চাঞ্চল্য হবে স্টেশনগুলো।

১৯২৮ সালের ২ আগস্ট বন্দর নগরী চিলমারীর রমনা স্টেশন চালু হয়। যাত্রীদের সুবিধার জন্য রেলপথ চালুর পর পার্বতীপুর-রমনা রেলপথে সকাল ও সন্ধ্যায় দুটি, লালমনিরহাট-রমনা পথে দুপুর ও রাতে দুটিসহ মোট চারটি ট্রেন যাতায়াত করে। ২০০২ সালের দিকে হঠাৎ পার্বতীপুর-রমনা রুটে একটি, লালমনিরহাট-রমনা রেলপথের দুটিসহ মোট তিনটি ট্রেন বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এর পর থেকে একটি ট্রেন চলাচল করছিল। গত বছরের ৮ মার্চ এই একটি মাত্র রমনা লোকাল বন্ধ করার মধ্য দিয়েই কি চিরতরে বন্ধ করে দিল উত্তরের বোরাক রমনা লোকাল?

  • লেখক: জরীফ উদ্দীন, সদস্য, রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটি, কুড়িগ্রাম।

পাঠক কথা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন