বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সোজা ক্লাসরুমে এলাম। কেউ লিখছে, কেউ তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে। কেউ কেউ আবার কভার পেজ পূরণ করা বাদ দিয়ে রাজ্যের গল্প করছে।

পেছনের টেবিলে গিয়ে শান্ত হয়ে বসলাম।
পাশের একজন লিখছে। দুইজন দাঁড়িয়ে আছে। লকডাউনে সবকিছু বন্ধ, সে জন্য তারাও লিখবে না। তাদের হাতের লেখাও বন্ধ। অ্যাসাইনমেন্টও অন্যজনকে টাকা দিয়ে লিখিয়ে নেয়। কী সাংঘাতিক ছাত্রছাত্রী বাবা।

default-image

যে লিখছে সে মাথা তুলে বলল, ইশ, দোস্ত, তোর নামের আগে এমডি লিখতে ভুলে গেছি। আর তোর বাপের নাম ছোট হাতের লিখছি, কোনো সমস্যা আছে?
পাশেরজন মাথায় হাত রেখে লাফ দিয়ে উঠে বলল, আয়হায়, তুই এইডে কী করলি! সার্টিফিকেটে তো এমডি আছে। তুই বাদ দিলি ক্যা? আর আমার আব্বা সম্মানিত মানুষ হের জন্য তুই বড় হাতের লেখবি না?

তুই আমার বাপরে অপমান করলি ভালা কতা, কিন্তু আমার দশ টেহা আবার জরিমানা লাগাইলি ক্যান? দপ্তরি তো এক টাকাও কম রাখব না।

সব পোলাপান ওর কাণ্ডখানা দেখে হাসতে হাসতে শেষ। অথচ কভার পেজে লেখায় আছে। নিচের অংশ শিক্ষার্থীদের স্বহস্তে ছোট হাতের ইংরেজিতে পূরণ করতে হবে।
অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার সময় দপ্তরিকে বললাম, ‘স্যার, একটা অঙ্ক বুঝে আসছে না। যদি হেল্প করতেন।’

স্যার বলাতে তিনি খুশি হয়েছেন। অঙ্ক কষতে পারবেন না জানি। তারপরও তিনি বললেন, ‘বলো। ক্যালকুলেটর আছে কইরে দিতাছি।’

স্যার, কথার অঙ্ক তো। দুই মিনিট শুনতে হবে। ‘আচ্ছা, আচ্ছা বলো।’

গ্রাম থেকে এক কৃষক শহরের নেতার জন্য ইয়া বড় একটা লাউ নিয়ে গেছেন। ওই নেতা খুশি হয়ে দারোয়ানকে কিছু টাকা দিয়েছেন, কৃষককে দেওয়ার জন্য।
দারোয়ান কৃষককে ওই টাকার অর্ধেক দিয়েছেন। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এই টাকা থেকে অর্ধেক টাকা গেল কই?
দপ্তরি হাসতে হাসতে বললেন, ‘আরে, এক্কেবারে সহজ, বুঝো না? দারোয়ান মাইরে দিছে। হা হা।’
আমি বললাম, প্রিন্সিপাল স্যার কভার পেজের জন্য চার টাকা করে রাখতে বলছিলেন। আর আপনি রেখেছেন দ—শ টাকা করে। এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আর ছয় টাকা গেল কই?
দপ্তরির কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে গেল। আমি দপ্তরির দিকে তাকিয়ে ভয়ংকর সুন্দর সুরে টেনে টেনে বললাম, ‘স্বাদের লাউ বানাইল মোরে ডুগডুগি!’

*লেখক: মনজুর সা’দ, কসবা, শেরপুর

পাঠক কথা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন