বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

একটি নির্বাচন হাজারো যোগ্য লোক ও নেতা বের করে আনে, যাঁরা প্রকৃতপক্ষে সমাজ ও দেশের জন্য আন্তরিকতার সঙ্গে কিছু করতে চান। অনেকে যদিও পাত্তা পান না। কিন্তু চুপসে যাওয়া মানবহিতৈষীদের আমাদের আয়নার মতো চিনতে হবে। নেতা হবেন তিনি, যাঁর কাছে মানুষ গিয়ে শান্তি পায়, ভরসাস্থল হয়ে ওঠেন যিনি। জগতের যেকোনো কাজ সঠিকভাবে সম্পাদনের জন্য নেতৃত্বের মনোভাব নিয়ে এগিয়ে গেলে তা সফল হওয়া সহজ ও দ্রুত সময়ে লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়। অর্থের মানদণ্ড, সামাজিক ও পারিবারিক ঐতিহ্য কখনো একজন যোগ্য মানুষ তৈরি করে না। জনপ্রতিনিধি হতে হলে প্রথমে ধাপে ধাপে মানুষের পাশে থাকার সহজাত ঔদার্যবোধে নমনীয়তায় চলতে হয়। বল প্রয়োগ ও খুনাখুনিতে কখনো ভালো ফল আশা করা যায় না। সাময়িক সুখ–স্বাচ্ছন্দ্য নয়, বরং ব্যাপক উন্নয়নের জন্য প্রখর মেধার অধিকারীদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করলে মানুষ ঠকে না।

একজন জনপ্রতিনিধির সরকারি বেতন সর্বসাকল্যে দুই অঙ্কের হাজারের ঘরে, তা–ও পাঁচ বছর মেয়াদে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাসিক বেতন–ভাতা যা তাঁরা পান, তার পরিমাণ খুবই অল্প। বরং ‘সম্মানী’ বলা চলে কেবল। তবে মেয়র ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোটামুটি ভালো সম্মানী পান। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা সেই তুলনায় অনেক কম সম্মানী পান, যা কখনো কাম্য নয়। মাঠপর্যায়ে ইউপি প্রতিনিধিরা যথেষ্ট পরিশ্রম করেন। বলাবাহুল্য, জনপ্রতিনিধি কোনো স্থায়ী নিয়োগের দায়িত্বপ্রাপ্ত জনশক্তি নন। সরকার চাইলে ব্যক্তির অসাধুতায় তৎক্ষণাৎ তাঁকে বহিষ্কার করতে পারে, পদ থেকে অব্যাহতি দিতে পারে।
ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিদের রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত অনেক কাজ করতে হয়। এ সম্পর্কে আমাদের যথাযথ ওয়াকিবহাল থাকতে হবে বৈকি। জনপ্রতিনিধিরা প্রশাসনিক, গণসংযোগ, রাজস্ব ও বাজেট, উন্নয়নমূলক ও বিচারবিষয়ক কার্যক্রমসহ অন্যান্য দায়িত্ব ও কর্তব্য, জনজিজ্ঞাসাবাদ ও জবাবদিহিসহ নানা কাজ করেন।

জনপ্রতিনিধিরা নিরলসভাবে দিনরাত সরকারি জরুরি ও জনকল্যাণমূলক কাজ করে যান। নীতি–নৈতিকতা ঠিক রেখে উল্লিখিত কাজ করার জন্য দায়িত্ব নেওয়ার আগে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। বাকিটা নিজের চরিত্রের ওপর নির্ভরশীল। আমরা জোর–জুলুম করে ক্ষমতা টিকিয়ে রেখে বাদশাহ হব, নাকি মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় আজীবন পূজনীয় হয়ে থাকব, তা ব্যক্তির আদর্শ ও চরিত্রের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর করে। কলমের কালি একসময় শেষ হয়, মোগলরাও আজ অতীত। বর্তমান সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের সঙ্গে মজবুত সাঁকো তৈরিতে আমরা বদ্ধপরিকর। আসুন, আমরা সবাই মিলে দেশ গড়ি, যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দিয়ে আমাদের সুখ–দুঃখের ভাগীদার করি। গোড়াপত্তন হোক ভালোদের দিয়ে, আলোকিত মানুষের সঙ্গে বসবাস করুক নির্বাচনের যোগ্য মহারথীরা।


*লেখক: পারভীন আকতার, শিক্ষক, কবি

পাঠক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন