স্পেনের বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের চিত্র প্রদর্শনী
স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সারওয়ার মাহমুদ ২ জুন দাপ্তরিক সফরে ইউনিভার্সিটি দে স্যান্টিয়াগো দে কোম্পোস্টেলা সফর করেছেন। সফরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির উদ্যোগে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনী ‘দেজ আনোস এন ঢাকা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
এর আগে বাংলাদেশ দূতাবাস মাদ্রিদের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে স্পেনের ইউনিভার্সিটি দে স্যান্টিয়াগো দে কোম্পোস্টেলা এবং দ্য ইউনিভার্সিটি অব করুনার মেলবন্ধনে ‘দ্য ইউনিভার্সিটি দে স্যান্টিয়াগো দে কোম্পোস্টেলা চেয়ার অব স্প্যানিশ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার’ প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে উদ্যোগটি বৃহত্তর স্প্যানিশ বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ইন্ডিটেক্সের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সারওয়ার মাহমুদ ইউনিভার্সিটি দে স্যান্টিয়াগো দে কোম্পোস্টেলা, দ্য ইউনিভার্সিটি অব করুনা এবং বৃহত্তর স্প্যানিশ বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ইন্ডিটেক্সের কর্ণধারদের এ মহতী আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত দ্য ইউনিভার্সিটি দে স্যান্টিয়াগো দে কোম্পোস্টেলা চেয়ার অব স্প্যানশ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচারের গত ১০ বছরের সক্রিয় কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ১৯৭২ সালে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকেই বাংলাদেশ ও স্পেন সম–আদর্শ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বাংলাদেশের তুলনামূলক বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, সাশ্রয়ী শ্রমমূল্য, ট্যাক্স অবকাশ, বন্দর–সুবিধা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে নতুন ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কথা আমন্ত্রিত ব্যক্তিদের সামনে তুলে ধরেন। তিনি স্প্যানিশ স্বনামধন্য রিটেইল প্রতিষ্ঠান ইন্ডিটেক্সসহ অন্যান্য স্প্যানিশ কোম্পানিকে বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি শক্তি, জাহাজ নির্মাণ, গৃহায়ণ, শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনা, টেলিযোগাযোগ, আইসিটি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে স্প্যানিশ বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ব্যক্তিদের সামনে ২০২১ সালের ডিসেম্বর অবধি অনুষ্ঠেয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন, মুজিব বর্ষ এবং একই বছরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের কথা তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, শান্তিপ্রিয় দেশ বাংলাদেশ, জাতিসংঘের অন্যতম বৃহত্তম শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রেরণকারী দেশ এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি ও সম্প্রীতির জোরালো এবং সক্রিয় কণ্ঠস্বর, যেমনটা ছিল শান্তির অগ্রদূত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শ। একই সঙ্গে তিনি রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়েও আলোচনা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ সংকটের সমাধানে রোহিঙ্গাদের তাদের জন্মভূমিতে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে মায়ানমারের ওপর চাপ বৃদ্ধি করবে।
আয়োজনে ‘ইউনিভার্সিডাদ দে সান্টিয়াগো দে কমপোস্টেলা’র রেক্টর ডা. অ্যান্টোনিও লোপেজ ডিয়াজ, ইউনিভার্সিডে দা করুনার রেক্টর ডা. জুলিও ই আবালদে আলোনসো, ইন্ডিটেক্স চেয়ারের পরিচালক অধ্যাপক সান্টিয়াগো ফার্নান্দেজ, করুনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক কাউন্সিলর এবং স্প্যানিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সামাজিক কাউন্সিলের সম্মেলনের সভাপতি আন্তোনিও অ্যাব্রিল আবাদিন ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।