বেড়ানো: সাদা বালুর সৈকতে

সাদা বালুর সৈকতে। ছবি: লেখকের মাধ্যমে প্রাপ্ত
সাদা বালুর সৈকতে। ছবি: লেখকের মাধ্যমে প্রাপ্ত

পৃথিবীখ্যাত সাদা বালুর (হোয়াইট সেন্ডি) বিচ। ধবধবে সাদা বালুকা বেলার সৈকতে যেন শিল্পীর আঁকা এক নান্দনিক শহর। পেনসিকোলা থেকে গালফ সোর আলাবামা সমুদ্রসৈকত। যুগ থেকে যুগান্তরে পাহাড়সম ঢেউয়ের খেলা পর্যটকদের খুব কাছে টেনেছে। শীত-বসন্ত, সব সময় প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের পদচারণে মুখর থাকে হোয়াইট সেন্ডি বিচ।

আমেরিকার মধ্য-পশ্চিমের অঙ্গরাজ্য ক্যানসাস থেকে আমরা কয়েকজন ছুটে গিয়েছিলাম সেই সাগর তীরে। উনিশ ঘণ্টা লংড্রাইভে কয়েক শ মাইল ক্লান্তিহীন ড্রাইভের পর নাঈম স্টিয়ারিং তুলে দেন তানিয়াকে। স্মুথ ড্রাইভ। চলছে তো চলছেই। পরে রাজিবও পাক্কা চালকের খাতায় নাম লিখিয়েছে। প্রায় এক হাজার মাইল পাড়ি দিতে চলতি পথে দেখা মেলে প্রকৃতির নানা আয়োজন।

আরাকানসাসের ছোট এক শহর লিটল রক। এই শহরকে সাবেক প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন নিজের মতো করে সাজিয়েছেন। যাত্রাবিরতিতে এখানে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সহিদুল হক অল্প সময়ে আমাদের আতিথেয়তার বন্ধনে আবদ্ধ করেছেন।

সাদা বালুর সৈকতে। ছবি: লেখকের মাধ্যমে প্রাপ্ত
সাদা বালুর সৈকতে। ছবি: লেখকের মাধ্যমে প্রাপ্ত

লুজিয়ানা থেকে পেনসাকোলা, রাস্তার দুই ধারে সারি সারি সবুজ গাছ দাঁড়িয়ে যেন আগাম জানান দিচ্ছে, এই তো সামনে সমুদ্রসৈকত।

খোলা আকাশের নিচে সাগরের নীলাভ জলে ঢেউয়ের গর্জন শুনতে কার না ভালো লাগে। ভোরের আবিরমাখা আলোয় সাদা বক, আমেরিকান ইগল ও অতিথি পাখির ওড়াউড়ি। গভীর সমুদ্র থেকে ঢেউয়ের সঙ্গে ভেসে আসা মুঠো মুঠো রংবেরঙের ঝিনুক-শামুক কুড়ানো, মাছ শিকার, বোটিং, ফ্লাইং, সমুদ্রের তরঙ্গমালায় সার্ফিং করাসহ বিশ্বখ্যাত হোয়াইট সেন্ডি বিচের নির্মল বাতাসে মুগ্ধতার আবেশ ছড়িয়ে রয়েছে। যেন ঝিনুক-শামুক ভরা বালুচরে ঢেউয়ের সঙ্গে নেচেছি।

সাদা বালুর সৈকতে। ছবি: লেখকের মাধ্যমে প্রাপ্ত
সাদা বালুর সৈকতে। ছবি: লেখকের মাধ্যমে প্রাপ্ত

৬৯ মাইল দীর্ঘ সৈকত ডেসটিনির মতো চোখধাঁধানো। শত শত রং-বেরঙের ঝিনুক-শামুক, কড়ি, অক্টোপাস, প্রবালের সারি সারি দোকান। কাগজের বই বা আইপ্যাডের নোটের সঙ্গে মিলিয়ে নিরেট সাগরসামগ্রী খুঁজে পেতে নতুন প্রজন্মের ভিড় দেখা এসব দোকানে। লবস্টারসহ নানা প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের খাবারের দোকান পর্যটকদের কাছে টানে।

কয়েক শ বছরের ঐতিহ্য এমারেল কোস্ট পোতাশ্রয় ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। সাগরে সময় কাটানোর জন্য নানা সুবিধা নিয়ে পর্যটকদের জন্য ঘাটে বাঁধা রয়েছে বিভিন্ন ধরনের নৌযান। এসব নৌযানে অল্প খরচে উত্তাল সাগরে দেখা যায় তিমির অভয়ারণ্য।

সাদা বালুর সৈকতে। ছবি: লেখকের মাধ্যমে প্রাপ্ত
সাদা বালুর সৈকতে। ছবি: লেখকের মাধ্যমে প্রাপ্ত

গালফ অব মেক্সিকোর কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা সৈকত শহর পেনসিকোলা। এই সমুদ্রসৈকত নিয়ে সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে এসেছে, পৃথিবীর অন্যতম নির্মল বাতাস-পানীয় জল সবকিছু নিয়ে শতভাগ দূষণমুক্ত অঞ্চল এটি।

১৫৫৯ সালে প্রথম আমেরিকার স্প্যানিশ অভিবাসীরা ফ্লোরিডার এ শহরে এসেছিলেন। কিছু সময় পর হারিকেনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ছোবলে অভিবাসী আসা থমকে যায়।

সাদা বালুর সৈকতে। ছবি: লেখকের মাধ্যমে প্রাপ্ত
সাদা বালুর সৈকতে। ছবি: লেখকের মাধ্যমে প্রাপ্ত

ফ্রান্স, স্পেন, ব্রিটেন, আমেরিকাসহ পাঁচ দেশের শাসনে ছিল বলে এ শহরকে ‘দ্য সিটি অব ফাইভ ফ্লাগ’ বলে ডাকা হয়। কালের বিবর্তনে উন্নত প্রযুক্তি ছোঁয়ায় ইট-পাথরে খোদাই করা শৈল্পিক সৌন্দর্যে এ শহরকে সাজানো হয়েছে। শোভা পাচ্ছে শতাধিক তারকা হোটেল। একজন পর্যটকের যা যা প্রয়োজন, সবই ধারণ করে আছে এ শহর।

সৈকত শহর পেনসিকোলায় চোখের পলকে আমাদের দিন শেষ হয়ে যায়। ফেরার সময় গাড়িতে বাজতে থাকে স্মার্টফোনে কানেক্ট করা গান, ওরে ছুটে যাই চলো সেই সাগর তীরে, ওরে খোঁজ নেই চলো ফেলে আসা মুগ্ধ তীরে। রঙিন স্বপ্নে গাথা স্মৃতির মালা, সৈকতে ফেলে এসেছি ।

সাদা বালুর সৈকতে। ছবি: লেখকের মাধ্যমে প্রাপ্ত
সাদা বালুর সৈকতে। ছবি: লেখকের মাধ্যমে প্রাপ্ত