বাংলাদেশের শিল্পীদের পাশে লন্ডনের আনন্দধারা আর্টস

প্রায় ১০ বছর ধরে ব্রিটেনের চিকিৎসক প্রখ্যাত অনকোলজিস্ট ইমতিয়াজ আহমেদের তত্ত্বাবধানে আনন্দধারা আর্টস লন্ডনে প্রতি সপ্তাহে সংগীতশিক্ষার আসর বসায়। সপ্তাহ শেষের এই ক্লাসে আসার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকে ৭০–এর দাদিমা থেকে শুরু করে বছর তিনের নাতনিও।
প্রধানত রবীন্দ্রনাথের গান, তার সঙ্গে কখনো কখনো শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রথম দিকের পাঠ চলে। সংগীতশিক্ষা ছাড়াও বছরে বেশ কয়েকবার লন্ডনের নামকরা ভেন্যুগুলোতে অনুষ্ঠানের আয়োজনও করা হয়। ইমতিয়াজ আহমেদ নিজে অতি ব্যস্ত পেশাগত কারণে। এরপর লন্ডন শহরের বাইরে সাউথ এন্ড থেকে এসে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে যে গানগুলো শেখান, বিভিন্ন আসরে তা পরিবেশন করে ছাত্রছাত্রীরা অকুণ্ঠ প্রশংসা কুড়ায়। লকডাউনের পরও গান শেখা আর শেখানো কোনোটাই থেমে থাকেনি, নিয়মিত অনলাইনে গানের ক্লাস চলছে আনন্দধারার।

সংগীতশিক্ষা, বছরে নানা অনুষ্ঠানের পর এবার কোভিড-১৯–এর দুর্যোগে বাংলাদেশের শিল্পীদের পাশে এসে দাঁড়ালেন আনন্দধারার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। দুই মাস ধরে বাংলাদেশ এবং ভারতের নামী শিল্পীদেরর সমন্বয়ে ফেসবুক অনলাইন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহে ব্রতী ছিলেন ইমতিয়াজ আহমেদ। তাঁর ডাকে সাড়া না দিয়ে পারেননি শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, মিতা হক, লাইসা আহমেদ লিসা, চন্দনা মজুমদার, খায়রুল আনান শাকিল, শারমিন সাথী ইসলাম, জয়ীতা খান, সৌনক চট্টোপাধ্যায় আর শ্রীরাধা বন্দোপাধ্যায়দের মতো শিল্পীরা। আনন্দধারার এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন লোকগানের শিল্পী স্বপন বসু ও তাঁর কন্যা সিমলি বসু এবং রথীন্দ্রনাথ রায়। এ ছাড়াও সুরের মূর্ছনায় দর্শকদের হৃদয় জয় করেছেন কিংবদন্তী সংগীতশিল্পী হৈমন্তী শুক্লা ও ইউরোপের প্রধানতম শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী চন্দ্রা চক্রবর্তী। প্রায় সব অনুষ্ঠানেই সঞ্চালনা পর্ষদে ছিলেন সোয়াস-সাউথ এশিয়ান আর্টসের আর্টিস্টিক ডিরেক্টর সংযুক্তা ঘোষ এবং কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও সংগীত বিশ্লেষক সিদ্ধার্থ কর গুপ্ত। অনুষ্ঠানে কারিগরি তত্ত্বাবধানে ছিলেন ইমরান খান।
অনুষ্ঠান থেকে পাঁচ হাজার পাউন্ড সংগ্রহ করে রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিষদের হাতে তা তুলে দিয়েছেন ইমতিয়াজ আহমেদ ও আনন্দধারার শিল্পীরা।

ইমতিয়াজ আহমেদ নিজে একজন রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী। শুধু নিজের রবীন্দ্রসংগীত চর্চাই নয়, বিলেতের মাটিতে শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রচারেও তাঁর ভূমিকা অসামান্য। কয়েক বছর আগে লন্ডনের সবচেয়ে বড় ভেন্যু বার্বিকানে তিনি পৃথিবীর বিখ্যাত শিল্পী উস্তাদ রাশিদ খানের অনুষ্ঠান আয়োজন করেন। এবার রাশিদ খান তাঁর নিজস্ব একাডেমি থেকে পৃথিবীব্যাপী যে ছোটদের অনলাইন সংগীতানুষ্ঠান আয়োজন করেন, তার দায়িত্বও দিয়েছেন ইমতিয়াজ আহমেদের ওপর। বিশ্ব শান্তি প্রার্থনায় সারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ছোটরা সংগীত পরিবেশন করছে এক মাস ধরে। এর মধ্যে যেমন আছে বিলেতের শিশুশিল্পীরা, তেমনি আছে বাংলাদেশ, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকার শিল্পীরাও।
করোনার পরও আনন্দধারার পক্ষ থেকে এমন সব উদ্যোগ বজায় থাকবে বলে জানিয়েছেন আনন্দধারার শিল্পীরা।