default-image

দুর্গাপূজার সপ্তমীতে শুরু হয়েছে যাত্রাপালার মৌসুম। কিন্তু কোথাও কোনো যাত্রানুষ্ঠান নেই। দেশে ১১৭টি পেশাদার দলের নিবন্ধন আছে—এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে যাত্রাশিল্প উন্নয়ন কমিটি। খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, নিবন্ধনকৃত দল ছাড়াও খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, বরিশাল থেকে বেশ কিছু অনিবন্ধিত ধর্মীয় (পৌরাণিক) যাত্রার দল সংগঠিত হয়েছে। অথচ দেশের কোথাও যাত্রার কোনো আয়োজন নেই।

যাত্রার সঙ্গে দুর্গাপূজার একটি নিবিড় সম্পর্ক তৈরি হয়ে আছে অতি প্রাচীনকাল থেকে। পূজার সপ্তমীতে মৌসুম গণনা করা হয় আর শেষ হয় বাংলা ৩০ চৈত্র (১৩ এপ্রিল)। যাত্রাশিল্পের লোকেরা জানান, পূজায় মৌসুম শুরু ধরা হলেও এর কার্যক্রম শুরু হয় অনেকটা আগে। রথযাত্রার দিনে যাত্রাদলে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এদিন দলে শিল্পী-কুশলী চুক্তিবদ্ধ করা হয়। নতুন পালা নির্বাচন করে তাতে গানে সুর বসানো এবং নির্বাচিত পালাগুলোয় মহড়া বসানো হয়। পূজার আগপর্যন্ত এ সমস্ত কর্মযজ্ঞে ব্যস্ত থাকেন দলের মালিকেরা। অন্যবার পূজা শুরু হলে শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজার অঞ্চলের চা-বাগানগুলো যাত্রাগানে সরগরম থাকত। ছোট-বড় ৩০ থেকে ৩১টি দল মাসব্যাপী বিভিন্ন বাগানে পালা প্রদর্শনের সুযোগ পেত। পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও নওগাঁ জেলায় মেলার মেলা-পার্বণেও যাত্রাদল থাকত মহাব্যস্ত। দলগুলো একধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক মঞ্চায়নে নামত। এ বছর করোনা অতিমারির প্রাদুর্ভাবে পড়ে সব দলই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। এ কারণে বেকার জীবন যাপন করতে হচ্ছে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত কর্মী-কুশীলবদের। দলের মালিকদের অর্থনৈতিক সংকটও চরমে ঠেকেছে।

বিজ্ঞাপন

আলাপকালে আনন্দ অপেরার মালিক মোশাররফ হোসেন নয়ন বলেন, ‘প্রতিবার পূজায় মৌসুমের শুরুর আগেই গানবাজনা শুরু হতো। এ বছর মৌসুম এলেও তা আর হয়নি। করোনা কবে যাবে, আদৌ যাবে কি না—এমন শঙ্কার মধ্যে আমরা পূর্ণাঙ্গ দল গঠন করতে সাহস পাইনি। এ কারণে প্রতিটি দলের মালিক আধাআধি দল করে বসে আছি। আমার দলে ৩০ থেকে ৩২ জন কর্মী-কুশলী কাজ করে। তারা এখন বেকার। কেউ কেউ বেঁচে থাকার তাগিদে অন্য পেশায় ঢুকে পড়েছে। এক খুলনার চিত্রই এমন—জনপ্রিয় নায়ক নির্দেশক দেবু মুসা (দেবদাস) গরুর হাটে হাসিল লেখার কাজ নিয়েছে।’

যাত্রামালিক সৌমেন জানান, তিনি কিছু শিল্পীর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। করোনাকালে দোকান দিয়ে বসেছেন। যাত্রামালিক আবদুল জলিলও দোকান চালু করেছেন। শিল্পী প্রশান্তও একটি দোকান দিয়ে বসেছেন। যাত্রা ম্যানেজার অজয় সরকার একটি মুদি দোকানে কাজ নিয়েছেন।

মন্তব্য পড়ুন 0