আয়োজন
মশার কামড়ে অতিষ্ঠ জনজীবন
মশার কামড়ে রীতিমতো অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। দিন নেই, রাত নেই, প্রতিমুহূর্তেই চলছে এদের অত্যাচার। বাসতবাড়ি, খেলার মাঠসহ সর্বত্রই মশার উপদ্রব। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অনেক এলাকার অবস্থা এখন এমনই। মশার উৎপাত এতটাই বেশি যে জানালা-দরজা খুলে রাখার উপায় নেই। ইদানীং এক জায়গায় বসলেই একসঙ্গে অগণিত মশা ঘিরে ধরে। একটা মারছি তো আরেকটা কামড়াচ্ছে, তেমন অবস্থা। মশার অত্যাচারে বাদ যাচ্ছে না হাসপাতালগুলোও। কয়েল, স্প্রে বা মশা মারার ব্যাট—কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। মশার অত্যাচারে ছাত্রছাত্রীরা সুষ্ঠুভাবে লেখাপড়া করতে পারছে না। মশার উপদ্রব যেভাবে বাড়ছে, তাতে রোগবালাই মহামারি আকার ধারণ করবে।
বছর দু-এক আগে আশঙ্কাজনকভাবে দেখা দিয়েছিল চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব। নগরের অধিকাংশ নালা ও ড্রেনের সংস্কারকাজ না হওয়ায় এখনো চলছে নাগরিক ভোগান্তি। বলা যেতে পারে, সময়মতো রাস্তাঘাট ও খোলা জায়গা থেকে ময়লা তুলে না নেওয়ায় বাড়ছে মশার উৎপাত। অনেক জায়গায় খেয়াল করলে দেখা যায়, নগরীর অধিকাংশ সড়কের পাশের ড্রেন ও নালার ময়লাগুলো তুলে সড়কে রাখায় এবং স্তূপীকৃত ময়লা-আবর্জনা ও যত্রতত্র রাখা ডাস্টবিনের কারণে পুরো নগরীকে উন্মুক্ত ভাগাড়ের নগর মনে হচ্ছে। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে চোখে পড়ছে না মশক নিধন অভিযান। যে হারে মশার উপদ্রব বাড়ছে, সেই হারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম চোখে না পড়ায় জনমনে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। মশা প্রাণীটি ক্ষুদ্র হলেও খুবই মারাত্মক। মশার কামড়ে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে যদিও মশার উপদ্রব তীব্রমাত্রায়। সেগুলো হলো কিউলেক্স নামের মশা। যদিও এ মশা কামড়ালে রোগের সম্ভাবনা থাকে না। কিন্তু এখন তো কোনটি কিউলেক্স আর কোনটি এডিস; কোনটি স্ত্রী, কোনটি পুরুষ খালি চোখে আর বোঝার উপায় নেই। ফলে কোনটা এডিস মশা আর কোনটার কামড়ে চিকুনগুনিয়া, কোনটার কামড়ে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, ফাইলেরিয়া, পীতজ্বর বা জিকা ভাইরাস সংক্রমিত হবে, তা বোঝার উপায় নেই। তাই অবশ্যই মশার কামড় থেকে যত দূর সম্ভব নিজেদের বিরত রাখা উচিত।
তাই আমাদের উচিত নিজেদের বাড়ির আশপাশের আঙিনা, নর্দমা, ডোবা, ফুলের টব, ছাদের বাগান, ভবনের চৌবাচ্চা আর যদি ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখা। তবুও মশার উপদ্রব বন্ধ করার জন্য সিটি করপোরেশনের তৎপরতা বাড়াতে হবে। শুধু বরাদ্দ নিয়ে বসে থাকলে হবে না, অনতিবিলম্বে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তাই মশকমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
*লেখক: শিক্ষার্থী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ
Also Read
-
বাজেট পুরোটাই ব্যবসাবান্ধব
-
গ্লোবাল মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডসে স্বীকৃতি পেল প্রথম আলো
-
ট্রাম্পকে সর্বোচ্চ শাস্তি দিল ফেসবুক
-
ডেল্টা ধরনের বিরুদ্ধে ফাইজারের টিকা থেকে অ্যান্টিবডি ৫ ভাগের এক ভাগ: গবেষণা
-
নয় ঘণ্টার মধ্যে কলেজছাত্র উদ্ধার, মামলা ও অভিযোগপত্র